মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-র ভেতরে ও বাইরে একাধিক নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। দলীয় সূত্র বলছে, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে দক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও আস্থাভাজন একজনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দিতে চায় দলটি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিএনপির একাধিক নেতার মতে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সাহসিকতা এবং সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে দলটি এবার কোনো তাড়াহুড়া করতে চায় না।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করা হবে যিনি সর্বজনগ্রহণযোগ্য, দক্ষ, প্রাজ্ঞ এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধ।
এদিকে, সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু দলীয় আনুগত্য নয়, সততা, নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং সংকট মোকাবিলার যোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে একজন সৎ, মর্যাদাসম্পন্ন ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করা উচিত। একই মত প্রকাশ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিত্বই রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রপতি হতে হবে একজন দেশপ্রেমিক, নিরপেক্ষ ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ ব্যক্তি, যিনি জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নিতে সক্ষম হবেন।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে বিএনপি। তাই শেষ মুহূর্তে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বর্তমান আলোচনার সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে।
