দিল্লির যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থী আন্দোলনের সময় উসকানিমূলক ও আপত্তিকর স্লোগানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদে বিতর্ক ও সামাজিক ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সামাজিক সহনশীলতার বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) এই ঘটনার জবাবে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংযম ও ক্ষমার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গালিগালাজ কখনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। বিভ্রান্ত তরুণদের অপরাধমূলক শাস্তির মুখোমুখি না করে তাঁদের বুকে টেনে নিয়ে সুপথে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেন তিনি।
গত ২৩ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর-মন্তরে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে আয়োজিত এক বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রয়াত মা-কে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এই প্রসঙ্গে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, যন্তর-মন্তরে যা ঘটেছে তা পুরো দেশ দেখেছে। কিছু বিভ্রান্ত তরুণ যে ভাষা ব্যবহার করেছে তা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে শৈশব ও কৈশোরে মানুষের ভুল হওয়া স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ বয়সের মূল উদ্দেশ্যই হলো ভুল শুধরে নেওয়া, তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনায় সমাজজুড়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভ তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন। কিন্তু এসব তরুণকে আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া, হয়রানি করা কিংবা শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হবে না। তাই কোনো ধরনের রাগ বা প্রতিশোধের পথ না বেছে সমাজ ও দেশবাসীকে বিভ্রান্ত তরুণদের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন এবং সঠিক পথ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে এই ঘটনার জেরে ২৫ বছর বয়সি এক তরুণীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় একটি জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করে পরবর্তীতে মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে কাকরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, ব্যবহৃত ভাষা আপত্তিকর হলেও রাজনৈতিক প্রতিবাদ দমনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি রাষ্ট্রীয় অপরাধমূলক আইনি ব্যবস্থা বা পুলিশি তৎপরতা চালানো মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
