২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেওয়া ছাত্র-জনতার ক্ষোভকে ভিন্ন খাতে ঘোরাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সন্ত্রাসী বিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ১ আগস্ট গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে সরকারের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপটি আন্দোলন দমানোর ক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত মাত্র চার দিন পর ৫ আগস্ট সরকারের পতন ঘটে।
সরকার সমর্থিত নেতাদের ও তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা ছিল, আন্দোলনটির নেপথ্যে মূল শক্তি ছিল জামায়াত-শিবির এবং তাদের নিষিদ্ধ করা হলে বিক্ষোভের গতি কমে যাবে। তবে সরকারের এই ফাঁদে পা দেয়নি দলটি। জামায়াত পৃথক কোনো দলীয় কর্মসূচি না দিয়ে বরং তাদের নেতাকর্মীদের সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতার সঙ্গে রাজপথে থেকে সরকার পতনের ‘এক দফা’ আন্দোলনে যুক্ত থাকার দিকনির্দেশনা দেয়। ফলে আন্দোলনটিকে কেবল ‘রাজনৈতিক তকমা’ দেওয়ার সরকারের কৌশল নস্যাৎ হয়ে যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের একটি বড় ধরনের ‘রাজনৈতিক ভুল হিসাব’ বা ‘মিসক্যালকুলেশন’। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানকে কেবল বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করায় তৎকালীন সরকার আন্দোলনের মূল গতিপ্রকৃতি অনুধাবনে ব্যর্থ হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজিরবিহীন সহিংসতার চিত্র ছড়িয়ে পড়ায় জনগণের ক্ষোভ আরও চরম আকার ধারণ করে।
নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন জারির পরও কোনো ধরনের জ্বালাও-পোড়াও বা পৃথক রাজপথের কর্মসূচি না এনে জামায়াত নেতারা কৌশলী ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা পুরো আন্দোলনকে সরকার পতনের একমুখী লক্ষে নিবন্ধিত রাখেন। দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আন্দোলন বেগবান করার এই কৌশলের ফলেই মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
