আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সম্প্রতি উত্তরার র্যাব-১ কার্যালয়ে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। প্রথম আলোসহ বেশ কিছু মূলধারার গণমাধ্যমে এই গোপন বন্দিশালাকে ‘কথিত’ বলে উল্লেখ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই অসন্তোষ জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে ফারুকী প্রশ্ন তোলেন, হিটলারের পতনের পর তাঁর টর্চার চেম্বারকে কিংবা মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধের সময় সংগঠিত হত্যা-ধর্ষণকে কি কেউ ‘কথিত’ বলার সাহস পেত? তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি বা দুটি নয়, বরং অনেকগুলো গণমাধ্যম একইভাবে গুমের মতো একটি গুরুতর ও স্পর্শকাতর বিষয়কে ‘কথিত’ শব্দবন্ধে উপস্থাপন করেছে, যা গদি মিডিয়ার মতো কোনো নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের নির্দেশ অনুযায়ী হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
জুলাই আন্দোলনের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে ফারুকী উল্লেখ করেন, গুমের মতো জাতির গভীর ক্ষত নিয়ে এই ধরনের তামাশা করার যে সাহস তৈরি হয়েছে, তা মূলত জুলাই-সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ভুল ও অসাবধানতার সুযোগেই উৎপাদিত হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে বাসাবাড়ির বাসরঘরের ছিদ্র বন্ধ করার মতো এখনই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
ফারুকী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণমাধ্যম এবং রাজনীতিতে এই প্রবণতা এখনই বন্ধ বা প্রতিরোধ করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে ‘জুলাই’, বর্তমান ‘সরকার’, এমনকি ‘নির্বাচন’ ও ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্রটিকেই একসময় ‘কথিত’ বলে অভিহিত করার অপচেষ্টা চালানো হবে। তাই সবাইকে এখনই সাধু ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এই নাট্য নির্মাতা।
