জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম স্তিমিত হলেও খুলনায় সংগঠনটির সাংগঠনিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন সময়ে ঝটিকা মিছিলের পাশাপাশি মহানগর ও জেলা কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যাগের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে নতুন কমিটিতে পদ পেতে নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ ও তৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
খুলনায় শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা গ্রেপ্তার, আত্মগোপন কিংবা দেশত্যাগে বাধ্য হলেও সম্প্রতি কেন্দ্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। খুলনা মহানগর ও জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটির জন্য জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান সংক্রান্ত এই বিজ্ঞপ্তিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। জেলা ছাত্রলীগের বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন পদপ্রার্থী নিজেদের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
নিষিদ্ধ সংগঠনটির এই পুনর্গঠনের চেষ্টা এবং গোপন তৎপরতা নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির। এনসিপির খুলনার সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত জানান, গণঅভ্যুত্থানে হামলার কারণে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। খুলনা মহানগরে তাদের যে কোনো গোপন তৎপরতা বা পুনর্বাসনের চেষ্টা ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিরোধ করা হবে।
একই সুর মিলিয়ে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম রাজিবুল আলম বাপ্পি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে এখনও আওয়ামী লীগের প্রভাব থেকে যাওয়ার কারণেই এই ধরনের তৎপরতা থামানো যাচ্ছে না। বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন উল্লেখ করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা এবং নগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসানও এই নিষিদ্ধ সংগঠনের ভার্চুয়াল ও অন-ফিল্ড তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তবে সার্বিক বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারির কথা নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ ও কেএমপি। খুলনা জেলা পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম ও কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এম এম শাকিলুজ্জামান জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
