নেত্রকোণায় সরকারি জলাশয় উন্মুক্ত রাখার সরকারি ঘোষণা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে শামুক উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের ওয়ালিদ মিয়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খালিয়াজুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্র থেকে জানা যায়, খালিয়াজুড়ী উপজেলার জগন্নাথপুর নূরপুর-বোয়ালী লাচুয়ানী বিলের দরুন্দা খালটি মদন উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত। কিছুদিন আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর হাওড়াঞ্চলে পোনা মাছ অবমুক্ত করার সময় ঘোষণা দেন যে, দেশীয় মাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে এ বছর হাওড়ের সব খাল-বিল ইজারামুক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নির্দেশ অমান্য করে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে এক শ্রেণির প্রভাবশালী গোষ্ঠী দরুন্দা খালে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে শামুক সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছে।
চাঁদা আদায়ের এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার প্রতিনিধি সৈয়দ আমিনূল হাসান (রুঝেল) জানান, এমপি ও মন্ত্রীদের নির্দেশনা অনুযায়ী জলাশয় উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং সেখানে অবৈধ চাঁদা নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া মেন্দীপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং এ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
খালিয়াজুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওলিদুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঠিক তদন্তে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
