দেশের গণমাধ্যমগুলো এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমাজে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো সাদা কে সাদা এবং কালোকে কালো বলা। তিনি উল্লেখ করেন, অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয়ে সংবাদকর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেও, তাঁরা এখনও স্বাধীনভাবে সেসব প্রচার করতে পারছেন না। এমনকি রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের কোনো ভুল থাকলে সেটিও তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা, দমন-পীড়ন এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিদ্যমান সংকটে বর্তমান সরকার কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছে, সেই রায় জনগণই দেবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা ও ভুতুড়ে বিলের কারণে অতিষ্ঠ জনগণের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি, যা নিশ্চিত করা সরকারের মূল দায়িত্ব। রাজনীতিকে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে কোনো মাস্তান বা সন্ত্রাসী মানসিকতার মানুষের স্থান হতে পারে না।
আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের জামায়াতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলে যুক্ত করতে হলে কেন্দ্রের কঠোর অনুমতি লাগবে এবং তাদের রাজনীতি করার সময় এখনও আসেনি। বিগত সময়ে অসংখ্য মায়ের কোল খালি করার পরও তারা দুঃখ প্রকাশ করেনি, বরং এখনও হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত ও মামলার আসামি হওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
