ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের একটি অত্যাধুনিক ‘হার্মিস ৯০০’ (Hermes 900) ড্রোন প্রায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোনটিকে কোনো শক্তিশালী ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার (ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার) মাধ্যমে জ্যাম করে অথবা নিচু উচ্চতায় ওড়ার সময় ইরানের আধুনিক ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে নিরাপদে ভূপাতিত করা হয়েছে। ড্রোনটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সশস্ত্র অবস্থায় ইরানি অ্যারোস্পেস বিশেষজ্ঞদের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের অধীনে রয়েছে।
সামরিক সূত্র ও আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরান তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী শত্রুপক্ষের প্রায় ১৯৬টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ (MQ-9) রিপার ড্রোন এবং ইসরায়েলের হেরন ও হার্মিস সিরিজের একাধিক ড্রোন রয়েছে, যা ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়।
ইসরায়েলের এলবিট সিস্টেমস (Elbit Systems)-এর তৈরি এই ‘হার্মিস ৯০০’ ড্রোনটি মূলত একটি মিডিয়াম-অল্টিটিউড লং-এন্ডুরেন্স (MALE) ড্রোন, যা ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী কৌশলগত অস্ত্র। এটি একটানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আকাশে উড়তে পারে এবং সর্বোচ্চ ৩০,০০০ ফুট উচ্চতায় উঠে কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং একই সাথে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জন্য এই ড্রোনটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
ড্রোনটি প্রায় অক্ষত অবস্থায় ইরানের হাতে আসায় ইসরায়েলের জন্য এটি একটি বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। কারণ এর ফলে ইসরায়েলের এই ড্রোন প্রযুক্তির রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং বা নকশা নকল করার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে ইরান। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ড্রোনটির কোনো তথ্য ফাঁস হওয়ার বা গোপনীয়তা ভঙ্গের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
