দেশব্যাপী চরম সংকট ও অসন্তোষের মাঝেই ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে ভর্তুকিপ্রাপ্ত সারের দাম কম হওয়ার সুযোগ নিয়ে সীমান্তবর্তী একাধিক জেলা ও উপকূলীয় রুট দিয়ে ব্যাপক হারে সার পাচার হচ্ছে। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা এবং কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কপথ, কর্ণফুলী নদী ও নাফ নদীর অন্তত ১৫টি রুট দিয়ে পাচারকৃত এই সার মিয়ানমারে চলে যাচ্ছে, যার বিপরীতে বাংলাদেশে ঢুকছে ইয়াবা, আইস ও আগ্নেয়াস্ত্রের মতো মারাত্মক অবৈধ চালান।
সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, অসাধু ডিলার, পরিবহন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় চোরাকারবারিদের যোগসাজশে প্রান্তিক কৃষকদের নামে বরাদ্দকৃত সার মজুত করে মিয়ানমারে পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশে ১ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের এক বস্তা ইউরিয়া সার মিয়ানমারে প্রায় ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এবং আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা রাখাইন রাজ্যে সারের তীব্র চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে চিহ্নিত মাদক ও মানবপাচারকারী গডফাদাররা এই পাচার কারবারে অর্থলগ্নি করছে।
সারের এই বিপুল পাচারের কারণে সীমান্ত জেলাগুলোতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া সত্ত্বেও তীব্র সার সংকট দেখা দিয়েছে। ডিলারদের কাছে বারবার ঘুরেও প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা আন্দোলন ও গুদাম ভাঙচুরের মতো কর্মসূচিতে নেমেছেন। অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা ভুয়া বিতরণ দেখিয়ে কিংবা আংশিক বস্তা কেটে পাচারকারীদের হাতে সার তুলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা প্রতিরোধে পুলিশ ও কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা ও কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫৮ কেজি সার জব্দ এবং ১১৭ জনকে আটক করেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে সাধারণত বহনকারী বা ডেক্সপ্রিন্ট শ্রমিকরা ধরা পড়লেও মূল গডফাদাররা অন্তরালেই থেকে যাচ্ছে। ফলে মামলা ও সীমান্ত পাহারা সত্ত্বেও জল ও স্থলপথে কৌশলে সার পাচার এবং বিনিময়ে মাদকের প্রবেশ পুরোপুরি ঠেকানো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
