জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ভূমিকার উল্লেখ না থাকায় নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এর ব্যাখ্যায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই প্রদর্শনীতে মূলত কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা এবং এর বিরুদ্ধে জনগণের লড়াইয়ের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। জিয়াউর রহমানকে কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে বিবেচনা না করায় প্রদর্শনীর এই অংশে তাঁর ভূমিকা রাখা হয়নি।
শনিবার রাজধানীতে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত প্রদর্শনীটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তা স্বীকার করে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। জামায়াতের এই প্রদর্শনীতে ইতিহাসকে সম্পূর্ণ নির্মোহ ও বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদর্শনীতে স্থান না পাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, তাঁরা জিয়াউর রহমানকে কোনো স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে বিবেচনা করেন না। তিনি কোনো অটোক্রেট শাসক ছিলেন না। প্রদর্শনীতে মূলত যাদের কর্তৃত্ববাদী ও আগ্রাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তাদের কর্মকাণ্ডই তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের মুক্তি ও ন্যায্যতার জন্য যারা ভূমিকা রেখেছেন, বিভিন্ন অংশে তাদের অবদানও স্থান পেয়েছে।
জামায়াতের এই বিশেষ প্রদর্শনীতে জুলাই আন্দোলনের পটভূমি, বিভিন্ন সময়ে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং আন্দোলনে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান আমির। তিনি আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলার পর আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ে এবং ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
৩ আগস্টের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই সময় সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যদের একটি বড় অংশ জনগণের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, যা ছিল আন্দোলনের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। তিনি অভিযোগ করেন, ৩ ও ৪ আগস্ট দেশে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে নির্বিচারে লাশ গুমের মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।
বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াত আমির জোর দিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষের মনে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি পূরণ হয়নি। জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার দিনই প্রকৃত অর্থে ‘জুলাইয়ের’ সমাপ্তি ঘটবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
