জামালপুরের মেলান্দহ মডেল মসজিদে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সাধারণ মুসল্লিদের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে সঞ্চয় শর্মা (৩৭) নামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পরপরই মুসল্লিদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা চালালে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত সঞ্চয় শর্মা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মহেশপুর এলাকার তোতারাম শর্মার ছেলে। ঘটনার দিন জুম্মার নামাজ শেষে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর নিজেকে অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র দাবি করে মুসল্লিদের কাছে অর্থ সাহায্য চান। এ সময় তাঁর দেওয়া বক্তব্য ও আচরণে সন্দেহ হলে উপস্থিত কয়েকজন সচেতন মুসল্লি তাকে বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্থানীয়রা তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছে থাকা কোর্টের একটি এফিডেভিট (হলফনামা) দেখতে পান। অভিযোগ রয়েছে, এই একই আইনি নথি ব্যবহার করে তিনি এর আগেও জামালপুর সদর ও ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন মডেল মসজিদে গিয়ে একাধিকবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের নাটক সাজিয়েছেন এবং মানুষের ধর্মীয় সহানুভূতি আদায় করে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
প্রতারণার বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে কিছু সময় আটকে রাখেন। পরে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করায় এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এ ধরনের অনৈতিক ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার শর্তে তাঁর কাছ থেকে একটি লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে এমন প্রতারণাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে স্থানীয়রা এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
মেলান্দহ উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম মুফতি জাহেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সঞ্চয় শর্মা প্রথমে ইসলাম গ্রহণের সুপ্ত ইচ্ছার কথা জানালে ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী সবার সামনে তাঁকে কালেমা পড়ানো হয়। এরপর তিনি নিজেকে গরিব ও অসহায় দাবি করে আর্থিক সহায়তা চাইলে তিনি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন যে, বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে একই কৌশলে একাধিকবার ইসলাম গ্রহণের কথা বলে সে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল।
এ বিষয়ে মেলান্দহ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানার পক্ষে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তিনি আরও জানান, মডেল মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় মুসল্লিদের উপস্থিতিতে আর কখনো এমন প্রতারণা করবেন না—এই শর্তে মুচলেকা নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন।
