লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার সকালে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রলয়ঙ্করী এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ইতিমধ্যে ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। তীব্র কম্পনে দেশটির বিভিন্ন শহরে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। কলম্বিয়ার পেরেইরা শহরের ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া জীবিতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জনবিরল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে এবং কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। তবে এর তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কলম্বিয়ার প্রায় সবকটি বড় শহর কেঁপে ওঠে এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী তাচিরা প্রদেশ ও বারকিসিমেতো শহরেও তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। ইউএসজিএস সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির প্রভাব সামনে আরও বাড়তে পারে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কলম্বিয়ার প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল রিসারালদা প্রদেশে। প্রদেশটির গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনিও নিশ্চিত করেছেন যে, কেবল তাঁর এলাকাতেই ৪২ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে এবং ধসে পড়া ভবনের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে চিকিৎসক, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে, এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের মাত্র কয়েক দিন আগেই কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডানপন্থী রাজনীতিক আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই এটিই তাঁর প্রশাসনের সামনে আসা প্রথম ও সবচেয়ে বড় জাতীয় সংকট। এর আগে কখনো কোনো নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন না করা এই প্রেসিডেন্ট রাজধানী বোগোতার উদ্দেশে বিমানে যাওয়ার সময় এক ভিডিও বার্তায় জানান, তিনি তাঁর পূর্বনির্ধারিত সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত করেছেন এবং রাজধানী থেকে নিজেই সরাসরি এই জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয় করবেন।
