একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের মালিকানা পুরোনো বা সাবেক মালিকদের হাতে ফিরে যাওয়ার পথ বন্ধ করার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান রেখে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের প্রয়োজনীয় ভেটিং সাপেক্ষে এই সংশোধনীটি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিতর্কিত ধারাটির কারণে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার, যার পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত এই ধারাটি পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের আওতায় তৎকালীন প্রশাসন পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করেছিল। একই সঙ্গে ওই ব্যাংকগুলোকে লোকসানি ও দুর্বল করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার পথও আইনিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
তবে পরবর্তীতে সংসদে অধ্যাদেশটি যখন পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে পাস হয়, তখন বর্তমান বিএনপি সরকার নতুন একটি ধারা যুক্ত করে। ওই সংশোধিত ১৮(ক) ধারার মাধ্যমে এসব ব্যাংকের সাবেক বিতর্কিত মালিকদের আবারও মালিকানায় ফিরে আসার আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই বিশেষ বিধানটি বহাল রাখায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। তীব্র চাপের মুখে সরকার এখন বিতর্কিত ও সমালোচিত ওই ধারাটি পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করল।
অবশ্য বিতর্কিত এই ধারাটি বাতিলের বিষয়ে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও প্রদান করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারার অধীনে যেসব কঠোর শর্তাবলি দেওয়া ছিল, তা মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় সরকার জনস্বার্থে এই ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবারের এই একই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর পাশাপাশি দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক প্রটোকল বজায় রাখার স্বার্থে ‘ভিসা নীতি-২০২৬’-এরও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
