একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে না পেরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়াকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশ। সোমবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কলরেকর্ডে এই হুমকির চাঞ্চল্যকর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই অডিওটিতে পদ পেতে ৫০ লাখ টাকা খরচ করার বিস্ফোরক দাবিও করতে শোনা গেছে পৌর বিএনপির এই নেতাকে।
ছড়িয়ে পড়া কলরেকর্ডে শোনা যায়, গিয়াস উদ্দিন পলাশ অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মারুফ ভূঁইয়াকে বলছেন, ‘আমি পৌর বিএনপির সেক্রেটারি, আমার নাম ব্যানারে আসে নাই। আপনি নাকি বলেছেন পলাইশশা কে? নির্বাচিত সেক্রেটারি, সেক্রেটারি হতে ৫০ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছি। তোরা কেউ পৌরসভায় আসবি না।’ মূলত ‘পানিওয়ালা’ নামক একটি স্থানীয় স্কুলের অনুষ্ঠানে মনোয়ার নামের একজনকে প্রধান অতিথি এবং মারুফকে বিশেষ অতিথি করায় ক্ষুব্ধ হন পলাশ। তিনি বারবার প্রশ্ন তোলেন কেন তাঁকে প্রধান অতিথি করা হলো না।
অডিওর কথোপকথন অনুযায়ী, ব্যানার ও পদমর্যাদা নিয়ে তীব্র অসন্তুষ্ট পলাশ একপর্যায়ে মারুফ ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সাংগঠনিক রাজনীতি যদি না বোঝেন, তাহলে করবেন না। আমি পানিওয়ালাতে যাব, সেখানেই কথা হবে।’ জবাবে মারুফ ভূঁইয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘আমি কিছু বলিনি ভাই।’ তবে একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে চরম উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় এবং কিছু অশ্রাব্য শব্দও ব্যবহৃত হতে শোনা যায়। এই অডিও ফাঁসের পর অর্থ খরচের স্বীকারোক্তি ও নিজ দলের নেতার সঙ্গে এমন আচরণ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি স্বীকার করেন। তবে দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তিনি দাবি করেন, ‘অডিওটি বেশ পুরোনো। সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি ইতিমধ্যে রাজনৈতিকভাবে মীমাংসা হয়ে গেছে এবং পলাশ ভাই আমার কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।’
এদিকে হুমকি ও পদ পেতে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচের দাবির বিষয়ে বক্তব্য জানতে রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। তবে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রাগের বশবর্তী হয়ে পলাশ ওই সময় কথাগুলো বলেছিলেন, বর্তমানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত রামগঞ্জ পৌর বিএনপির কাউন্সিলে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছিলেন গিয়াস উদ্দিন পলাশ। একই কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ কামরুল ইসলাম। তবে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানের ব্যানারকে কেন্দ্র করে পলাশের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং কমিটির পদ পেতে অর্থ খরচের স্বীকারোক্তি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
