সরকারের নাম ভাঙিয়ে কিংবা ক্ষমতার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা বা স্বজনপ্রীতিভিত্তিক ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের অধীনে কে কার পরিচিত—এসব তদবির বা সুবিধা দেওয়ার দিন শেষ। সুবিধাভোগী ব্যক্তি সরকারের যে পদের মন্ত্রী কিংবা যত বড় প্রভাবশালী লোকই হোন না কেন, কাউকেই কোনো ধরনের অন্যায্য সুযোগ বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে কাস্টমস, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের যৌথ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থাকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে এবং প্রথমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরবর্তীতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে নিতে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, সরকারের এই অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল লক্ষ্যই হলো সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল ও চাঙ্গা করা, দেশের যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, রপ্তানি খাত ও শিল্পায়নকে আরও গতিশীল করা এবং সর্বোপরি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নিরাপদ, ঝামেলামুক্ত ও সুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। সরকার চায় ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক বা রাজনৈতিক বাধা ছাড়াই তাঁদের বৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারেন।
দেশে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ বা ব্যবসা সহজীকরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভুল কিছু নীতিমালার মাধ্যমে ব্যবসার ক্ষেত্রে যে সমস্ত জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল, তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার রূপরেখা বাজেটের ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিলকরণের ঘোষণাতেই দেওয়া হয়েছে। সেই ডিরেগুলেশন প্রক্রিয়াকে মাঠপর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগের অন্যতম একটি অংশ হলো চট্টগ্রামের এই যৌথ মতবিনিময় সভা।
চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ঝামেলামুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কাস্টমসের আইনগত জটিলতা এবং বন্দরে পণ্য খালাসে অতিরিক্ত বা বাড়তি খরচের কারণে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই উচ্চ দ্রব্যমূল্যের চাপ গিয়ে পড়ে। এটি একদিকে যেমন বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই কাস্টমস ও বন্দর সমন্বিতভাবে কাজ করলে পণ্য খালাসের সময় ও খরচ উভয়ই কমবে, যার সুফল সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সমাজ সবাই পাবে।
