ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুর ইসলাম সানভীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তির নাম নাজিম। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততা ও অপরাধে সহযোগিতা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত শাকিল (২৩) এখনো পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ১৬ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী আশুলিয়ার কন্ডা এলাকার বাসিন্দা এবং সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শাকিল তাদের প্রতিবেশী এবং সে ও তার সহযোগীরা ওই শিক্ষার্থীকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও উত্যক্ত করত বলে ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেছেন।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা আরিফা আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে মেয়েকে তিনি নিজেই স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফিরে যান। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে জানতে পারেন যে সে স্কুলে নেই। খোঁজাখুঁজি করার একপর্যায়ে মেয়ের বান্ধবীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ওই দিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নবীনগর এলাকায় সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে শাকিল ও তার সহযোগীরা অসৎ উদ্দেশ্যে তার মেয়েকে ফুঁসলিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে।
মেয়ের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও উদ্ধারের চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা শেষে মঙ্গলবার আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অপহরণের ঘটনায় এনসিপি নেতা তৌহিদুর ইসলাম সানভী ও নাজিমের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার তথ্য-প্রমাণ মেলে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পলাতক প্রধান আসামি শাকিলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
