সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সরকারি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষের টাকা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পঞ্চগড়ে বিএনপির এক শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল খালেককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের মোলানি পাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও সানি ইমাম মো. হাসনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভাতা প্রদানের উদ্যোগের কথা জানতে পেরে তিনি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মসজিদ কমিটির সাথে আলোচনা করেন। কিন্তু স্থানীয় দুই মুসল্লি এবং বিএনপি নেতা মো. আব্দুল খালেক ও মো. আইবুল হক ওই তালিকায় নাম তুলতে মুয়াজ্জিনের কাছে প্রথমে ৩০ হাজার এবং পরে রফাদফা করে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তালিকায় নাম ওঠানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী হাসনুর রশিদ আরও জানান, ঘুষের টাকা দিতে না পারায় গত কিছুদিন আগে গভীর রাতে (আনুমানিক রাত ১টা ৯ মিনিটে) বিএনপি নেতা আব্দুল খালেকের ছেলে সাজ্জাদুর রহমান আকাশসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী কায়দায় তাঁর বাড়িতে চড়াও হয় এবং জোরপূর্বক মসজিদের চাবি কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মুয়াজ্জিন জানতে পারেন, তাঁর নাম সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্য তিনজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে গত ৭ আগস্ট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী মুয়াজ্জিন, যেখানে তিনি নিজেকেও দীর্ঘদিনের দলীয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে মাঠে নামেন। সরেজমিন তদন্তে অর্থ দাবি ও চাবি কেড়ে নেওয়ার ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গত ১০ আগস্ট আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে সাময়িক অব্যাহতির এই কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবু দাউদ প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বাবু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
তবে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া বিএনপি নেতা আব্দুল খালেক তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, ওই মুয়াজ্জিনের পারিবারিক সমস্যার কারণে মসজিদ কমিটি তাঁকে বাদ দিয়েছে এবং হাসনুর রশিদ নিজেই তালিকায় নাম রাখার জন্য মসজিদে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের জুলুম বা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না।
