ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ না পাওয়ার ক্ষোভে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পোগলদিঘা ইউনিয়ন ছাত্রদলের দুই নেতার পদত্যাগের যে দাবি জেলা ছাত্রদল করেছিল, তা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। পদত্যাগের ঘোষণার মাত্র একদিনের মাথায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. ইবনে হাসান তাঁর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পুনরায় সংগঠনের দায়িত্বে বহাল থাকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে পদত্যাগ করা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রিংকুর বিষয়ে এখনো নতুন কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় ইবনে হাসান তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের কথা জানান। এর আগে গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পোগলদিঘা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রিংকু ও দপ্তর সম্পাদক ইবনে হাসান ফেসবুকে পৃথক পদত্যাগপত্র প্রকাশ করলে তা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দেয়।
ভিডিও বার্তায় ইবনে হাসান ফ্যামিলি কার্ডের চাকরি না পেয়ে ক্ষোভে পদত্যাগের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যের জন্য ঢাকা থেকে আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশই নেননি। তাই পরীক্ষা না দিয়ে চাকরি না পাওয়ার ক্ষোভ থাকার প্রশ্নই আসে না। মূলত সম্প্রতি ঢাকায় নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ায় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিয়মিত সময় দিতে না পারার ব্যর্থতাবোধ থেকেই তিনি প্রথমে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
ইবনে হাসান আরও জানান, তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি জানার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর সমস্যার কথা শোনেন। ভবিষ্যতে চাকরিসহ সব ক্ষেত্রে পাশে থেকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন এবং সংগঠনের সঙ্গেই থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এর আগে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদন করে নিয়োগ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই সম্ভবত ওই দুই নেতা ফেসবুকে পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, দলীয় নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগের কোনো কপি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়েনি, যা ছিল কেবলই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-কেন্দ্রিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
