ব্যবসায়িক কাজে চাঁদা দাবির অডিও রেকর্ড ফাঁসের অভিযোগে বহিষ্কৃত ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নোমানুল হক নোমানকে সাড়ে চার মাস পর স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) ফেনী জেলা ছাত্রদল সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্তে তাঁর এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেনী জেলা শাখার অধীন ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নোমানুল হক নোমানের ওপর অর্পিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে স্বপদে বহাল করা হলো। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
এর আগে গত মার্চ মাসে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ট্রাকে করে মাটি পরিবহনকে কেন্দ্র করে নোমানের সঙ্গে রামপুর নাসির মেমোরিয়াল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার তাহাদ ইফতুর একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় চার মিনিটের ওই ফোনালাপে ইলাশপুর সড়ক দিয়ে সাত দিন মাটি পরিবহনের বিপরীতে নোমানকে ১৬ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করতে শোনা যায়, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
ফোনালাপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত ২৪ মার্চ নোমানুল হক নোমানকে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছিল কেন্দ্রীয় সংসদ। দীর্ঘ সাড়ে চার মাস তদন্ত ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁর এই পদ ফিরিয়ে দেওয়া হলো।
ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও স্বপদে বহালের আনুষ্ঠানিক চিঠি জেলা কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় সংসদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এখন থেকে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
