ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার এলাকার হুগলি নদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বিশাল সিঙ্গাপুরের পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজ সরাসরি নদীবাঁধে ধাক্কা মেরেছে। বুধবার সকালে ডায়মন্ড হারবারের নুরপুর জেটিঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা ঘিরে পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নৌ-পরিবহন সূত্র থেকে জানা গেছে, ‘নাওতাভুম’ (Nawata Bhum) নামের এই বিশালাকার মালবাহী কার্গো জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং থেকে কন্টেইনার বোঝাই করে কলকাতা বন্দরের দিকে আসছিল। নুরপুর ফেরিঘাটের কাছাকাছি আসার পর আচমকা যান্ত্রিক গোলযোগ ও প্রবল জোয়ারের টানে জাহাজটির স্টিয়ারিং জ্যাম হয়ে যায় এবং গতিপথের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। বিপদ বুঝতে পেরে জাহাজের মাস্টার অবিরত হর্ন বাজিয়ে পাড়ে থাকা মানুষদের সতর্ক করতে থাকেন এবং এর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এটি সোজা এগিয়ে এসে নদীর পাড়ের পল্টনে ও কংক্রিটের নদীবাঁধে সজোরে আছড়ে পড়ে।
ভয়াবহ এই সংঘর্ষের ফলে নদীবাঁধের বড় একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ রাস্তার একাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার ঠিক ওই সময়ে নুরপুর জেটিঘাটে কোনো যাত্রীবাহী লঞ্চ বা সাধারণ ফেরি উপস্থিত না থাকায় কোনো ধরনের প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, যার ফলে খুব বড় একটি বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। প্রতিদিন এই রুট ব্যবহার করা হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মধ্যে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে নদী থেকে পানি ঢোকার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এই হুগলি নদীতে এই নিয়ে পরপর তিনটি বিদেশি জাহাজ দুর্ঘটনার মুখে পড়ল। এর আগে গত কয়েক সপ্তাহে বজবজ এলাকার কাছাকাছি নদীপথে দুটি বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজও প্রায় একইভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর পাড়ে ধাক্কা খেয়েছিল। একের পর এক এই ধরণের বড় দুর্ঘটনার কারণে জাহাজগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ব্যবস্থা, যান্ত্রিক সক্ষমতা এবং এই নদীপথের সামগ্রিক নৌ-নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্তের জোরালো দাবি উঠছে। দুর্ঘটনার পর কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকারী টাগবোট পাঠিয়ে জাহাজটিকে উদ্ধার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
