ঢাকার ধামরাইয়ে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক হতদরিদ্র ও অসহায় নারীর কাছ থেকে অভিনব উপায়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় এক দালালের সহযোগিতায় ধামরাইয়ের একাধিক গ্রামে এই অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় জাকির হোসেনের স্ত্রী নাছিমা আক্তারের সরাসরি সহযোগিতায় ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নের কালিদাসপট্টি ও বানেশ্বর এবং সূতিপাড়া ইউনিয়নের সিন্ধুলিয়া এলাকার শতাধিক অসহায় নারীর কাছ থেকে এই অর্থ আদায় করা হয়। ভুক্তভোগী বানেশ্বর গ্রামের শিরিন আক্তার ও রূপবানসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাঁরা নাছিমার মাধ্যমে ফরিদা ইয়াসমিনের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ১০০ টাকা করে জমা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের এলাকারই প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের কাছ থেকে একইভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে দলীয় নেত্রীর এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রুস্তম। তিনি জানান, স্বজনদের মাধ্যমে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আগেই সাধারণ মানুষকে টাকা দিতে নিষেধ করেছিলেন। পরে তিনি আরও জানতে পারেন, কালিদাসপটি গ্রামে নিজ ছেলের শ্বশুরবাড়িতে একটি গোপন বৈঠক করে ফরিদা ইয়াসমিন দাবি করেন—স্থানীয় সংসদ সদস্য নাকি তাকেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের একক দায়িত্ব দিয়েছেন! রুস্তম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দলের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এভাবে অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এর দায় দল নেবে না।
অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে ধামরাই উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন এবং সব অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন। তবে ভুক্তভোগী নারীদের সুস্পষ্ট ও ভিডিও জবানবন্দির প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি থতমত খেয়ে যান এবং প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তাঁকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। ধামরাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম হাসান বলেন, মহিলা দল নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন ফ্যামিলি কার্ডের মিথ্যা আশ্বাসে টাকা তুলছেন—এমন তথ্য আমাদের কানেও এসেছে। পুরো বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেছি। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন, তিনি দেশে ফিরলে তাঁর সাথে আলোচনা করে এই নেত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।







