মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে নাশকতামূলক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মনির হোসেন (২৭) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, আটককৃত এই যুবক ওই ওয়ার্ড বিএনপির বর্তমান সভাপতি শহিদুল ইসলামেরই আপন ছেলে। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সিরাজদিখান থানা পুলিশ তাঁর নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে গত বুধবার আদালতে হাজির করা হলে সেখানেও বিজ্ঞ বিচারকের খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি। মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারের বরাতে পুলিশ সুপার জানান, গত ১৭ জুলাই রাতে বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দেরচর লেকু মার্কেট এলাকায় অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গভীর রাতের এই আগুনে কার্যালয়ের আসবাবপত্রসহ ভেতরে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নথিপত্র ও মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় গত ২২ জুলাই যুবদল কর্মী আবদুস সালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সিরাজদিখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২২ জুলাই এই ঘটনার সন্দেহে নাহিদ হাসান (২৩) ও ওসমান গনি (২৪) নামে দুই যুবককে আটক করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে তাঁদের দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতেই এই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সভাপতি-পুত্র মনির হোসেনের প্রধান সম্পৃক্ততার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে মনিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ছেলের এমন বিতর্কিত কাণ্ডে খোদ হতবাক ও বিব্রত ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কারো ইন্ধনে বা উসকানিতে পড়ে হয়তো ছেলে আমার এরকম ভুল কাজ করেছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কার স্বার্থে সে নিজের দলের কার্যালয়ে আগুন দিল, তা পুলিশি তদন্তেই বিস্তারিত বেরিয়ে আসবে।’
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন এবং আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক কার্যালয় ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা বিরোধ মেটানোর জায়গা হতে পারে না। কোনো অপরাধীর ছাড় নেই। সে বিএনপি নেতার ছেলে হোক বা অন্য কেউ—এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি হওয়া উচিত।
