লিবিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাতের মধ্যেই পূর্বাঞ্চলীয় নেতা খলিফা হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহর বেনগাজিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে লিবিয়ার দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক জোরদারে আঙ্কারার নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক একসময় বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। ২০১৯-২০ সালে খলিফা হাফতারের বাহিনী রাজধানী ত্রিপোলি দখলের অভিযান চালালে তুরস্ক ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের পক্ষে সামরিক সহায়তা দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আঙ্কারা পূর্বাঞ্চলের হাফতারপন্থী শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়িয়েছে।
হাফতার পরিবারের সঙ্গে তুরস্কের ধারাবাহিক যোগাযোগ
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন বেনগাজিতে হাফতারের ছেলে এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির উপপ্রধান সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই আলোচনায় লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রশাসন এবং সামরিক কাঠামোকে একীভূত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ও উঠে আসে।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জুলাই আঙ্কারায় সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তবে ওই বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
কেন হাফতার শিবিরের দিকে আঙ্কারা?
পর্যবেক্ষকদের মতে, লিবিয়ার বর্তমান বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতায় শুধু ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে চাইছে না তুরস্ক। বরং পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি হাফতার শিবিরের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সমীকরণে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে আঙ্কারা।
এ উদ্যোগের পেছনে কয়েকটি কৌশলগত স্বার্থ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে লিবিয়ার সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতায় ভূমিকা রাখা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তুরস্কের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করা।
এখনো বিভক্ত লিবিয়া
লিবিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির মধ্যে বিভাজন রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা কাঠামোকেও পুরোপুরি একীভূত করা সম্ভব হয়নি।
ফলে জাতীয় পর্যায়ে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং একটি অভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো গড়ে তোলা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতায় হাফতার শিবিরের সঙ্গে তুরস্কের সাম্প্রতিক যোগাযোগকে লিবিয়া বিষয়ে আঙ্কারার নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: দ্য আরব উইকলি, আনাদোলু এজেন্সি ও এপি
