নানা বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে পাকিস্তান। ভোররাতে রাজধানী ইসলামাবাদে ৩১ বার এবং প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ঐতিহাসিক এই দিনে করাচিতে দেশটির স্থপতি কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মাজার-ই-কায়েদে অনুষ্ঠিত হয় মর্যাদাপূর্ণ গার্ড পরিবর্তন অনুষ্ঠান। স্বাধীনতা দিবসের বার্তায় দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব স্থিতিশীলতা অর্জন, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি তাঁর বিশেষ বার্তায় উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা কেবল একটি ঐতিহাসিক অর্জন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল দায়িত্ব। তিনি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। এ সময় তিনি কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্যে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, গত আড়াই বছরে পাকিস্তান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তিনি জানান, বিগত দুই বছরে প্রবাসী আয় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিল্প ও কৃষির টেকসই উন্নয়ন এবং যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধিকে বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি।
ভারতকে কঠোর বার্তা দিয়ে শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের জন্য পানির প্রতিটি ফোঁটা ‘রেড লাইন’। ভারত সঠিক পথে ফিরে না এলে দেশটিকে সরাসরি জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, কাশ্মীর সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান এবং ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের নিপীড়িত জনগণের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।
স্বাধীনতা দিবসের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে মতভেদ ভুলে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
