ভারতকে আগে শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার নিন্দা জানাতে হবে এবং এ দেশের জনগণকে যথাযথ সম্মান দিতে হবে; তার পরেই কেবল দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্ব বা অন্য কোনো সম্পর্কের বিষয়টি ভাবা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রতিবেশীকে বন্ধুর দৃষ্টিতে দেখা হলে দুই দেশের নানা জটিল সমস্যার সহজেই সমাধান হয়ে যায়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে বন্ধুর দৃষ্টিতে দেখেছে বলে তাঁর মনে হয় না, যার ফলেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।
বিএনপি নেতা আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে ভারত সম্ভবত বাংলাদেশের জনমত সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেনি। ভারতের জানা উচিত ছিল যে এই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলে বাংলাদেশের জনগণ তা কীভাবে গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণের মনোভাব অনুধাবন করতে না পারার কারণেই বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের কিছুটা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ভারত এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বের সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করতে চাচ্ছে। অথচ যিনি দীর্ঘ ১৮ বছর দেশকে ধ্বংস করেছেন এবং শত শত মানুষকে হত্যার পর ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁকে রাজকীয়ভাবে বরণ করে নেওয়ার মাধ্যমে ভারতের বার্তা স্পষ্ট হয়েছে—তারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি।
অবিলম্বে গণহত্যার নিন্দা ও বাংলাদেশের মানুষকে সম্মান জানানোর তাগিদ দিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা স্পষ্ট করেন যে, ভারত যদি জনগণের সেন্টিমেন্ট আমলেই না নেয়, তবে কার্যকর বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। গণহত্যাকে ধামাচাপা না দিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানোর পরেই কেবল দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য সম্পর্কের পথ খুলতে পারে।
