সম্প্রতি বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছি) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল দাবি করেন যে, তাঁর জেলার একটি উপজেলায় ১২ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। নিজের পদে থাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এই শিক্ষার্থীরা একটি হোস্টেলে থাকত এবং তাঁদের অতীত ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন তথ্যের কথা তুলে ধরেন।
তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ তাঁর এই দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে নাকচ করে দিয়েছে। নওগাঁর সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম জানান, পুরো জেলায় গত এক বছরে মাত্র তিনজন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে এবং তারা সবাই সিভিল সার্জন অফিসের তত্ত্বাবধানে সুস্থ ও চিকিৎসাধীন আছেন। জেলাটিতে সর্বশেষ ৬ মাস আগে এক ব্যক্তির শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছিল।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও পরিষ্কার করেন যে, গত জুলাই মাসে নওগাঁয় ১২ জন ব্যক্তি রক্ত পরীক্ষা করতে এসে এইচআইভি টেস্ট করিয়েছিলেন। পরীক্ষা করানো হয়েছিল কিন্তু তাঁদের কারও শরীরেই এইচআইভি শনাক্ত হয়নি এবং সবার রিপোর্টই সম্পূর্ণ নেগেটিভ বা নেগেটিভ এসেছে।
একই কথা নিশ্চিত করেছেন বদলগাছি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা। তিনি জানান, জুলাই মাসে ওই উপজেলায় ১২ জনের রক্ত পরীক্ষার সাথে সতর্কতামূলকভাবে এইচআইভি পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়, তবে তাদের সবার ফলাফলই নেগেটিভ ছিল।
তথ্যগত ভুল ও বিভ্রান্তিকর এই মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
