ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বঙ্গভবন আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়। তবে কয়েক শতাব্দী আগে এই স্থানে কোনো রাষ্ট্রীয় ভবন ছিল না। মাজার থেকে শুরু করে মুঘল আমলের আবাস, নবাবের বাগানবাড়ি এবং ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের গভর্নর হাউজ—দীর্ঘ ইতিহাসের নানা অধ্যায় পেরিয়ে বর্তমান বঙ্গভবনের সৃষ্টি।
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চদশ শতকে সুফিসাধক শাহ জালাল দাখিনী ও তাঁর অনুসারীরা এই এলাকায় এসে একটি খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৪৭৬ সালে সুলতানের লোকদের হাতে নিহত হওয়ার পর তাঁকে এখানেই সমাহিত করা হয়। তাঁর মুরিদ শাহ কামালকেও পাশে দাফন করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের কবরকে ঘিরে এলাকাটি মাজার হিসেবে পরিচিতি পায়।
মুঘল আমলে জায়গাটি নওয়ারা মহলের দায়িত্বে থাকা মির্জা মুকিমের বাসভবনের অংশ ছিল। কথিত আছে, তাঁর মেয়ের অলংকার একটি দিঘিতে ফেলার ঘটনা থেকেই পার্শ্ববর্তী এলাকার নাম ‘মতিঝিল’ হয়।
ব্রিটিশ শাসনামলে এলাকাটি আর্মেনীয় জমিদার মানুকের মালিকানায় ছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে ঢাকার নবাব খাজা আবদুল গনি জায়গাটি কিনে সেখানে ‘দিলকুশা বাগ’ নামে একটি বাগানবাড়ি গড়ে তোলেন।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকা পূর্ববঙ্গ ও আসামের রাজধানী হলে দিলকুশার একাংশে নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯০৬ সালে ভবনটির উদ্বোধন করা হলেও নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯১১ সালে। এর নাম দেওয়া হয় ‘গভর্নমেন্ট হাউজ’।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ভবনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘গভর্নর হাউজ’। ১৯৬১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে পুরোনো কাঠের ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৬৪ সালে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলায় গভর্নর হাউজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতার পর ২৩ ডিসেম্বর এখানেই বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ভবনটির নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গভবন’ রাখা হয়। একই সঙ্গে এটিকে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
মাজার, মুঘল আমলের আবাস, নবাবের বাগানবাড়ি, ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট হাউজ ও পাকিস্তানি গভর্নর হাউজ—ইতিহাসের এসব ধাপ অতিক্রম করেই আজকের বঙ্গভবনের জন্ম।
সূত্র: বিবিসি বাংলা ও বাংলাপিডিয়া







