হেফাজতে ইসলাম নিজেদের অরাজনৈতিক ও ক্ষমতালিপ্সাহীন সংগঠন হিসেবে দাবি করলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে তাদের দ্বিমুখী আচরণ ও ক্ষমতার প্রতি আগ্রহ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সদ্য সমাপ্ত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করা কওমি ঘরানার রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে মাত্র চারটি আসন দেওয়া হয়। তবে প্রতিটি আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি এবং নীতিগত সমন্বয়ের অভাবে জমিয়তের একজন প্রার্থীও জয়লাভ করতে পারেননি।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোট শরিক হিসেবে কওমি আলেমদের মধ্য থেকে কাউকেও মন্ত্রী কিংবা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়ন করেনি বিএনপি। নির্বাচনে খালি হাতে ফেরা এবং মন্ত্রিসভায় কোনো প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়ে হেফাজত ও জমিয়ত বলয়। এই পদবঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ থেকেই নতুন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনকে ‘আহলে হাদীস’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিবৃতিবাজি শুরু করেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
অথচ বিএনপি একটি অনৈসলামিক জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল এবং নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা হওয়া সত্ত্বেও, রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা পাঠাতে দ্বিধা করেনি হেফাজত। ঠিক একইভাবে, অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সেক্যুলার আদর্শের দল হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন হেফাজত আমীর মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ২০০ বছর ক্ষমতায় থাকলেও সমস্যা নেই বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন, যা তাদের আদর্শিক দেউলিয়াত্বকেই তুলে ধরে।
বর্তমানে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, খুন ও ধর্ষণের মতো নিত্যদিনের জাতীয় সংকটে ধর্মীয় এই সংগঠনটির কোনো কার্যকর প্রতিবাদ বা বক্তব্য চোখে পড়ে না। তবে নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা ও কওমি কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার উপক্রম হলেই তাঁরা ধর্মীয় ফতোয়া কিংবা ‘আহলে হাদীস’ ট্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
