গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বর্তমান বিএনপি নেতা শামীম খান ওরফে ‘ক্যাসেট শামীমের’ বিরুদ্ধে। পূর্বে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যা মামলার আসামি শামীম সরকার পতনের পর ভোল পাল্টে বিএনপিতে যোগ দিয়ে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়কের ফুটপাতে প্রায় আড়াইশোটি বিভিন্ন ভাসমান দোকান বসানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, দোকানভেদে তাঁদের প্রতিদিন ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। এতে প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার টাকা তোলা হয়, যা মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। মহাসড়ক দখল করে গড়ে ওঠা এই অবৈধ হাটের কারণে পুরো এলাকায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চাঁদাবাজির এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা শামীম খান এবং টঙ্গীবাজারের ইজারাদার বিএনপি নেতা ইসমাইল সিকদার বসু দাবি করেন, কোটি টাকায় সিটি করপোরেশন থেকে বাজার ইজারা নেওয়া হলেও নির্দিষ্ট সীমানা চিহ্নিত না থাকায় সাময়িকভাবে এসব দোকান বসানো হয়েছে। তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ফুটপাত কখনোই ইজারার আওতাভুক্ত নয়। দ্রুতই এসব অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে সওজ জানিয়েছে।
পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে এই দখলদারিত্ব চালানোর অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে স্থানীয় থানা প্রশাসন। টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিল্লুর রহমান জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবে উচ্ছেদের পরপরই দখলদারেরা পুনরায় দোকান বসিয়ে ফেলে।







