রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত অন্য তিনজন হলেন তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী। নিজ বাসা থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ বাড়িটির তালা ভেঙে ভেতর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও উদ্ধারকৃত আলামত সূত্রে জানা যায়, বাসায় ইয়াবা সেবনের প্রতিবাদ করার কারণেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ নামে মাছুয়াপাড়া এলাকার দুই স্থানীয় যুবককে আটক করেছে। পালানোর চেষ্টার সময় রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানের পাশের শ্মশান এলাকা থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জানান, ইয়াবা সেবনের বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং অভিযুক্তদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া কিছু মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও গলায় রশির দাগ পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে কয়েক দিন আগেই তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহত গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের শেষে শিক্ষকতা থেকে অবসরে গিয়ে বাসাতেই চিকিৎসা দিতেন, তাঁর মেয়ে সম্প্রতি স্নাতকোত্তর শেষ করেছিলেন এবং ছেলে ছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।







