পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ আসিম মালিক কুয়েত সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমদ আল-আবদুল্লাহ আল-আহমাদ আল-সাবাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ২৪ আগস্টের এই সফরকে পাকিস্তান-কুয়েতের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষাতের বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়ে কুয়েতের সরকারি সূত্র খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে বৈঠকটি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতা হিসেবে সামনে এসেছে।
আসিম মালিক একই সফরে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে কুয়েতের ফার্স্ট ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
আসিম মালিক বর্তমানে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে কুয়েতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার বৈঠক শুধু গোয়েন্দা পর্যায়ের যোগাযোগ নয়, বরং দুই দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্কের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুলাইয়ে কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ পাকিস্তান সফর করেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই সফরে পাকিস্তান ও কুয়েত দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কও সম্প্রতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি কুয়েত সম্প্রতি অনুমোদন করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছে।
চুক্তিটির ফলে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয়েও দুই দেশ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও পাকিস্তান-কুয়েত সম্পর্কের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতার অন্যতম প্রেক্ষাপট। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের সময়ে পাকিস্তান কুয়েতের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নিজেদের ভূমিকার কথা জানিয়েছে।
কুয়েতের নেতৃত্বও আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে কুয়েতে বড় একটি পাকিস্তানি প্রবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে। পাকিস্তান সরকার বিভিন্ন সময় কুয়েতে বসবাসরত পাকিস্তানিদের অবদানের বিষয়টি তুলে ধরেছে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ সম্পর্ক আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, আসিম মালিকের কুয়েত সফর এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠক পাকিস্তান-কুয়েত সম্পর্কের নিরাপত্তা ও কৌশলগত মাত্রাকে আরও দৃশ্যমান করেছে। তবে বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট নতুন প্রতিরক্ষা বা গোয়েন্দা চুক্তি হয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত সরকারি সূত্রে প্রকাশ করা হয়নি।
