বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কার্যালয়ে তার সফর কোনো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত নয়; বরং গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান তিনি। এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলের নেতারা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে তাকে দলের প্রতীক ‘শাপলা কলি’র প্রতিরূপ, একটি পাঞ্জাবি এবং বোরকার কাপড় উপহার দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে তারা অতীতে একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। সেই সহযোদ্ধাদের পাশে থাকা, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করা এবং একসঙ্গে পথ চলাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
বিরোধী দলের অধিকার থেকে বঞ্চনার অভিযোগ
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাদের যথেষ্ট সংরক্ষণ থাকলেও দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে তারা তা মেনে নিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের তুলনায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন বৈষম্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ প্রদানের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের মৌলিক দাবি আদায়ে ১১টি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
জোট ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই
১১ দলীয় জোট থেকে কোনো দল বেরিয়ে গেলে এনসিপিও জোট ছাড়তে পারে—এমন আলোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এনসিপি বা জামায়াত—কারও এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।
তার ভাষ্য, এটি প্রচলিত অর্থে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নয়। নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছিল এবং বর্তমানে জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন ইস্যুতে তারা একসঙ্গে আন্দোলন করছেন।
ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে কাজ শুরু
সম্ভাব্য ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, এ নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জোটভুক্ত দলগুলোর সম্ভাবনাময় নেতাদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বার্তা নাহিদের
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে তারা এখনো ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং জনদুর্ভোগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই তারা সোচ্চার থাকবেন।
তিনি বলেন, তাদের আন্দোলন কেবল কোনো জোটের নয়, বরং জনগণের স্বার্থে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন। যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি নানা কারণে নির্বাচনী ঐক্যে যুক্ত হতে পারেনি, তাদেরও জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জামায়াত আমিরের এই সফর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চলমান সংগ্রামে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সংসদ অধিবেশনে জনগণের পক্ষে তাদের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে এবং সংসদের বাইরে রাজপথেও তারা সমন্বিত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য জাহিদুর রহমানসহ দলটির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
