২০১২ সালে রাজধানীর নিজ বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনার দীর্ঘ ১৪ বছর পার হয়ে গেলেও কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তা এখনো অজানাই রয়ে গেছে। এর মধ্যে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা ১২৯ বার বৃদ্ধি করায় পুরো বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলা নিয়ে এক বিস্ফোরক ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জব্দকৃত ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে দাবি করেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডটি ছিল মূলত একটি রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হত্যাকাণ্ড বা ‘স্টেট স্পন্সর্ড কিলিং’।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন অভিযোগে আলোচিত সাবেক র্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল হাসানের সঙ্গে এই সাগর-রুনি হত্যার প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে। অভিযুক্ত জিয়াউল হাসান তৎকালীন সময়ে র্যাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় নিজস্ব কর্মকর্তাদের অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে মামলার সমস্ত আলামত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংস্থা প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করতে না পারে।
হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে প্রসিকিউটর জোহা জানান, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ওপর অত্যন্ত স্পর্শকাতর কোনো তথ্য বা ভিডিও ডকুমেন্টারি সাগর-রুনির হাতে চলে এসেছিল, যা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন পদক্ষেপে দীর্ঘ ১৪ বছরের লুকিয়ে রাখা এই রহস্যের সঠিক সুরাহা হবে এবং জাতি সত্য জানতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।
