জাতীয় সংসদে নিজের দাড়ি ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ ঘটনায় নিজের দলেরই এক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে স্পিকারের কাছে বিচার দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন একটি গল্পকে কেন্দ্র করে দেওয়া বক্তব্যের কিছু অংশ স্পিকারের আসন থেকে এক্সপাঞ্জ করা হয়েছিল। বক্তব্যের কোনো অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া স্পিকারের এখতিয়ার হলেও, যার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে, তিনি কোন শব্দটি অসংসদীয় ছিল তা জানার অধিকার রাখেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি। পরে এ নিয়ে ৩০০ বিধিতে নোটিশও দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এরপর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নামাজের বিরতির পর তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য তাকে ‘মানবতাবিরোধী’ ও ‘বর্ণবৈষম্যবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তার দাড়ি নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তার দলেরই এক সদস্য মন্তব্য করেছেন—‘নীল নদের পানি যেমন নীল হয় না, তেমনি সকলে দাড়ি রাখলেই নাকি মুসলমান হয় না।’
এ ধরনের মন্তব্যকে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সম্মানের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “আমার ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করা হয়েছে, আমার ইজ্জতে আঘাত করা হয়েছে। দাড়ি কারও ব্যক্তিগত ব্যাপার না, দাড়ি নবীর সুন্নত। এটা নিয়ে কটাক্ষ করার এখতিয়ার এই সংসদে কেন, বাইরেরও কাউকে দেওয়া হয়নি। আমি এর বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওইদিন সংসদের শিষ্টাচার বা ডেকোরাম ভঙ্গ করে কয়েকজন সংসদ সদস্য তার দাড়ি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। তার পক্ষে যারা বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন, তাদেরও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের সম্মানের পাশাপাশি সংসদের মর্যাদা রক্ষায় এ বিষয়ে স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, “আমি বলতে চাই না, আমি বললে হাউজ আরও গরম হতে পারে বলে সবাই মনে করে। কিন্তু আমার ইজ্জতের খাতিরে, সংসদের ইজ্জতের খাতিরে এবং প্রবীণতার ইজ্জতের খাতিরে আমাকে বলতে হবে, আমি কোন অসংসদীয় শব্দটি বলেছিলাম।”
মনিরুল হক চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে তিনি ৩০০ বিধিতে নোটিশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ারও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
