ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির যেকোনো কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে এক সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান সরকারের সময়কালের খুন, নারী-শিশু নির্যাতন এবং পুলিশের ওপর হামলার তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা ও সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
একই বক্তব্যে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ করেন যে, সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেখানে সিনেমা হলগুলোও প্রায় বন্ধের পথে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করতে পেরেছেন কি না বা এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন কি না, তা স্পিকারের মাধ্যমে জানতে চান তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই বক্তব্যটি সংসদীয় প্রশ্নের চেয়ে পল্টনের জনসভার বক্তৃতার মতো শোনায়। হাসনাতের উপস্থাপিত অপরাধের পরিসংখ্যানের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন যে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে এবং যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
এদিকে সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সমাবেশ থেকে বক্তারা হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জন্য তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় জেলায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি পালন করতে না দেওয়ার হুমকি দেন তারা।
এমপির বক্তব্য ও কওমি শিক্ষার্থীদের প্রতিহতের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শনিবারের নির্ধারিত এনসিপির জেলাভিত্তিক কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এনসিপি বা এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং সব ধরনের কর্মসূচির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
