কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের সতীর্থ ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে এবার সোচ্চার হয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার জাভেদ মিয়াঁদাদ। এনডিটিভি-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাবেক অধিনায়ক ইমরানকে একজন ‘সৎ মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে মিয়াঁদাদ চলমান জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা এবং তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দুর্নীতির মামলায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা ইমরান খানের ন্যূনতম চিকিৎসা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে সম্প্রতি ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি লিখেছেন। সেই তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্সও সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন। এরই মধ্যে পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যম ‘ন্যারেটিভস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরানের মুক্তির পক্ষে জোরালো অবস্থান প্রকাশ করলেন ৬৯ বছর বয়সী মিয়াঁদাদ।
ইমরানের সঙ্গে মাঠের দীর্ঘ সম্পর্ক তুলে ধরে মিয়াঁদাদ বলেন, “কেউ আমাকে বোঝাক, সে কি পাকিস্তানকে খেয়ে ফেলবে? আমরা সবাই পাকিস্তানি। পরিস্থিতিকে অযথা দীর্ঘায়িত না করে একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করা উচিত।” খেলোয়াড়ি জীবনে তাঁদের মধ্যে শত্রুতা বা বিরোধের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি জানান, ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলা থেকে শুরু করে জাতীয় দলে দুজনে একসঙ্গে পাকিস্তানের ক্রিকেটের সেরা সময় পার করেছেন।
অতীতে ইমরানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও পিসিবি পরিচালনার সমালোচনা করলেও মিয়াঁদাদ স্পষ্ট করেন যে, সাবেক সতীর্থ হিসেবে ইমরানের অবদান ভোলা সম্ভব নয়। সাক্ষাৎকার চলাকালে অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, “সে আমাদের জাতীয় বীর এবং একজন সৎ মানুষ। দেশপ্রেমের দিক থেকে সে কারও চেয়ে কম নয়। মানুষ মাত্রই ভুল হয়, এখন এই বৈরী ভাবাপন্ন পরিস্থিতির অবসান হওয়া দরকার।”
সাবেক এই পাক অধিনায়ক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দেন যে, কারাবন্দী অবস্থায় ইমরানের শারীরিক কোনো বড় ক্ষতি হলে পুরো পাকিস্তান মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হবে। ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে এই জুটির ঐতিহাসিক ১৩৯ রানের পার্টনারশিপে ভর করেই শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। পরবর্তীতে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর একের পর এক মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে, যাকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
