পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক অসহায় বিধবা নারীর ভাতার টাকা তাঁর নিজস্ব মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে নিজের নগদ অ্যাকাউন্টে হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মো. আব্দুল খালেক নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার এবং স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। গত প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি প্রতারণা করে এই টাকা তুলে নিচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বানেশ্বরপাড়া এলাকার মোছা. রহিমা বেগম সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিধবা ভাতা কর্মসূচির একজন সুবিধাভোগী। ২০২০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং জিটুপি ব্যবস্থা চালুর পর ভাতার জন্য মোবাইল নম্বর জমা দিলেও পরবর্তীতে তিনি আর কোনো টাকা পাননি। দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করার পর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ভাতার টাকা নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট নগদ নম্বরে পাঠানো হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যে নগদ নম্বরে রহিমা বেগমের ভাতার টাকা পাঠানো হতো, সেটি ওই ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালেকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে খোলা হয়েছে। সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রহিমা বেগমের ভাতার প্রায় ৪০ হাজার টাকা ওই অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবারই তা উত্তোলন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মে মাসেও ১ হাজার ৯৬১ টাকা পাঠানো হয় ওই নম্বরে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী নারীর দাবি অনুযায়ী, মেম্বারের ভাই এসে তাঁর ছেলের হাতে নগদ ৭ হাজার টাকা দিয়ে যান এবং এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য চাপ দেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালেক দাবি করেন, চার বছর আগে তাঁর ওই সিমটি হারিয়ে গেছে এবং কীভাবে সেটি ভাতার তালিকায় যুক্ত হলো তা তিনি জানেন না। তবে সিম হারানোর কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কেন করা হয়নি কিংবা টাকা উত্তোলন না করলে কিসের ভিত্তিতে আপস করা হলো—এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এই বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা জানান, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
