তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’ বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। গত ৭ আগস্ট তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই যুগান্তকারী চুক্তিতে যোগ দিতে বাংলাদেশসহ অন্তত ছয় থেকে সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের এই অবস্থান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি মিসরও এই মক্কা জোটে যুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৩১ আগস্ট ২০২৬ ইস্তাম্বুলে আয়োজিত যৌথ বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, মক্কা জোটকে শুরু থেকেই সম্প্রসারণের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে জোটের ভিত্তি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ও মজবুতভাবে স্থাপন করাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রথম তিন বছর পাকিস্তান থেকে মহাসচিব নিযুক্ত হবেন।
প্রতিরক্ষা শিল্পের পারস্পরিক উন্নতি, সামরিক সরঞ্জাম যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি আদান-প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অঙ্গনে কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
