২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সাড়ে সাত বছর পর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে সাড়ে চার হাজার ভোটে হেরে যাওয়া মো. রাশেদ খাঁনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। তৎকালীন জিএস গোলাম রাব্বানীর এমফিলের ছাত্রত্ব বাতিলের অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই রায় দেয়, যা নিয়ে ব্যাপক আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।
২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন গোলাম রাব্বানী এবং ৬ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন রাশেদ খাঁন। ২০২৬ সালে এসে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে রাব্বানীর এমফিলের ভর্তি ও ছাত্রত্ব বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল। পরবর্তীতে সিন্ডিকেট বৈঠক ডেকে পরাজিত প্রার্থী রাশেদ খাঁনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিএস পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
আইনজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্তটি আইনি ভিত্তি ও এখতিয়ারের দিক থেকে মারাত্মকভাবে ত্রুটিপূর্ণ। ছাত্রত্ব বাতিল একটি প্রশাসনিক ও একাডেমিক শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া, যা একাডেমিক কাউন্সিলের এখতিয়ারে পড়ে। তবে ছাত্রত্ব বাতিলের ভিত্তিতে বিগত নির্বাচনী ফল বদলে দেওয়া বা পরাজিত প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করার মতো কোনো আইনগত ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের বিধিতে নেই।
একই সাথে সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়েও বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। যদি এটি ২০১৯ সালের সংসদের মেয়াদের জন্য হয়, তবে সেই সংসদের মেয়াদ ফুরিয়েছে প্রায় ছয় বছর আগে। আর যদি বর্তমানের জন্য এই পদ দেওয়া হয়, তবে সেটি নির্বাচনী সংশোধন নয় বরং প্রশাসনিক নিয়োগ, যার কোনো আইনগত অধিকার সিন্ডিকেটের নেই। তদুপরি, গোলাম রাব্বানীর বিগত সাত বছরের সিদ্ধান্ত, সই এবং দায়িত্ব পালন যদি ‘অবৈধ’ গণ্য হয়, তবে তার সময়কালের সমস্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো আইনি যুক্তি বা বিধিমালার তোয়াক্কা না করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক পদাধিকার (প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী) হওয়ার সুবাদেই এমন নজিরবিহীন ও অকার্যকর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
