ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংকটের মধ্যেই চরম প্রশাসনিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বা আর্মি সেক্রেটারি পদ থেকে ৪১ বছর বয়সী ড্যান ড্রিসকলের আকস্মিক পদত্যাগ পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সামরিক ব্যর্থতার বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী (সেক্রেটারি অব ওয়ার) পিট হেগসেথের সাথে দীর্ঘদিনের তীব্র মতবিরোধ ও নীতির দ্বন্দ্বে জড়িয়েই দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৮ মাসের মাথায় পদত্যাগপত্র জমা দেন ড্রিসকল। রিপাবলিকান প্রশাসনের ভেতরে অন্যতম প্রভাবশালী এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা সামরিক আধুনিকায়ন ও ড্রোন প্রযুক্তি জোরদার করার পক্ষে থাকলেও হেগসেথের একের পর এক শীর্ষ জেনারেলদের অপসারণের সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
বিশেষ করে গত এপ্রিলে কোনো নির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়ে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জসহ অন্তত এক ডজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ। এই গণছাঁটাই এবং হেগসেথের একচ্ছত্র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছিলেন আর্মি সেক্রেটারি ড্রিসকল। ফলে দীর্ঘদিনের এই স্নায়যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ড্রিসকলের পদত্যাগের মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক উপস্থিতির ওপর ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের অব্যাহত আঘাত মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী যখন ধুঁকছে, ঠিক তখনই পেন্টাগনের এই শীর্ষ পদের শূন্যতা সামরিক কার্যক্রমকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে। পূর্বে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানের পদত্যাগের পর এবার সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক পদ খালি হওয়ায় পুরো মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের নেতৃত্বের সংকটে পড়ল।
ইরান যুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং সেনাবহরের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার দায়ে এখন খোদ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হচ্ছে। মার্কিন বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটররা তাঁর চরম ব্যর্থতার সমালোচনা করে তাঁকে অবিলম্বে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন সেনাবাহিনীর এই ঐতিহাসিক রদবদল ও সংকট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় রাজনৈতিক এবং সামরিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।







