দীর্ঘ এক দশকের ব্যবধান ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদিত হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার টাকায়।
স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭১ সালের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ছিল মাত্র ১৩০ টাকা। গত ৫৩ বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১১০ ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ২০ ডলারে পৌঁছানোর সাথে সাথে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন।
নতুন অনুমোদিত নবম পে-স্কেলে ২০তম বা সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের বা সচিব পদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১ লাখ টাকার ঘর অতিক্রম করল।
পে কমিশনের ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালের পর এ পর্যন্ত মোট আটবার বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। ১৯৭৭ সালে ঘোষিত দ্বিতীয় পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২২৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালের তৃতীয় পে-স্কেলে বড় উত্থান ঘটে, যেখানে সর্বনিম্ন বেতন বেড়ে ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন দ্বিগুণ হয়ে ৬ হাজার টাকা দাঁড়ায়।
নব্বইয়ের দশকে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল। ১৯৯১ সালের চতুর্থ পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৯০০ টাকা এবং ১৯৯৭ সালের পঞ্চম পে-স্কেলে তা ১ হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছে। ২০০৫ সালের ষষ্ঠ পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২ হাজার ৪০০ টাকা হয় এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন প্রথমবারের মতো ২০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে ২৩ হাজার টাকায় উন্নীত হয়।
পরবর্তী পে-স্কেলগুলোতে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থ-সামাজিক সুরক্ষায় বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়। ২০০৯ সালের সপ্তম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৪ হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৪০ হাজার টাকা করা হয়। ২০১৫ সালে ঘোষিত অষ্টম পে-স্কেলটি ছিল তৎকালীন সময়ে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন, যেখানে সর্বনিম্ন বেতন ১০১ শতাংশেরও বেশি বাড়িয়ে ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা সম্প্রতি অনুমোদিত নবম পে-স্কেলের মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল।
