দুর্নীতির অভিযোগের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আলটিমেটাম ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে যে মানহানি করা হয়েছে, তার জন্য দুদককে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এই অসত্য অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা ও মানহানির মামলা করতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদায়ন সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ খণ্ডন করে সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তটি ছিল মূলত আদালতের রায় বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া। আদালতের রায়ের কারণে নিয়মবহির্ভূতভাবে চলতি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের তাঁদের মূল দশম গ্রেডের পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ফলে এই আদেশে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ ছিল না।
অতিরিক্ত ১৫০ জনের পদোন্নতির অভিযোগ সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ ব্যাখ্যা দেন যে, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও জ্যেষ্ঠতার তালিকা অনুসরণ করেই মূলত ১৮২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সমস্ত এসিআর এবং রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে এই প্রক্রিয়ার সম্পন্ন করেছে, যেখানে মন্ত্রী বা উপদেষ্টার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপর কোনো আইনি এখতিয়ার ছিল না।
অভিযোগগুলোকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অজ্ঞতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপির মুখপাত্র দাবি করেন, জেলা বা উপজেলা পর্যাযের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ফাইল সচিবের এখতিয়ারভুক্ত। এই পদায়ন প্রক্রিয়ার কোনো ধাপে তিনি নিজে সম্পৃক্ত ছিলেন না জানিয়ে সত্য উদঘাটনে যেকোনো নথি বা তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করতে প্রস্তুত আছেন বলে জানান তিনি।
