স্মার্টফোন এখন শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিনোদন—বিভিন্ন প্রয়োজনে ছোটরাও নিয়মিত ফোন ব্যবহার করছে। তবে ইন্টারনেটে শিক্ষামূলক উপাদানের পাশাপাশি বয়সের অনুপযুক্ত ভিডিও, ছবি ও ওয়েবসাইট বিদ্যমান থাকায় অসাবধানতাবশত শিশুরা ক্ষতিকর কনটেন্টের মুখোমুখি হতে পারে। তাই সন্তানকে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সেটিংস চালু রাখা অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ‘স্ক্রিন টাইম’ ফিচারটি বেশ কার্যকর। সেটিংস থেকে এই ফিচার অন করে একটি পৃথক পাসকোড দিয়ে ‘কনটেন্ট অ্যান্ড প্রাইভেসি রেস্ট্রিকশনস’ সক্রিয় করা যায়। এর ভেতরের ‘ওয়েব কনটেন্ট’ অপশন থেকে ‘লিমিট অ্যাডাল্ট ওয়েবসাইটস’ নির্বাচন করলে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট ব্লক হয়ে যায়। এ ছাড়া অ্যাপের বয়সভিত্তিক সীমা নির্ধারণ এবং আইটিউনস বা অ্যাপ স্টোর থেকে অনুমতি ছাড়া কেনাকাটা বন্ধ করার ব্যবস্থাও এতে রয়েছে।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে গুগলের ‘ফ্যামিলি লিঙ্ক’ অ্যাপ অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। এই অ্যাপের মাধ্যমে সন্তানের ফোনের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্লক বা অনুমোদন এবং ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং ফিচারের সাহায্যে অ্যাপের ব্যবহারের সময়সীমা ঠিক করা সম্ভব। একই সঙ্গে গুগল প্লে স্টোরের ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোলস’ ও গুগল সার্চের ‘সেফসার্চ’ চালু রাখলে অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
ইউটিউব ব্যবহারে ‘রেস্ট্রিকটেড মোড’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানের অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংস কঠোর রাখা প্রয়োজন। তবে কেবল প্রযুক্তিগত কড়াকড়ি বা নজরদারিই যথেষ্ট নয়, সন্তানের সঙ্গে অনলাইনে নিরাপদ থাকার উপায় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করাও জরুরি। ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখলে বকাঝকা না করে তা কেন অনুপযুক্ত তা বুঝিয়ে বলা এবং পরিবারে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় ‘ফোন-ফ্রি’ রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।







