কুমিল্লা সার্কিট হাউসে বরাদ্দ করা কক্ষে প্রচুর উইপোকা দেখতে পেয়ে রাত্রিযাপন না করেই চলে গেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন। তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, কক্ষ পরিবর্তনের অনুরোধ জানানোর পরও দ্রুত বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি সেখানে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। পথে চৌদ্দগ্রামে একটি পথসভাও অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মসূচির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুক্রবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে পৌঁছান আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তাঁর থাকার জন্য ‘রাধাচূড়া-২০২’ কক্ষটি বরাদ্দ করা হয়েছিল।
রাত ১০টার দিকে কক্ষে বিশ্রাম নিতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ উইপোকা দেখতে পান। বিশেষ করে আলমারির ভেতরে বালিশ ও কম্বল রাখার স্থানসহ কয়েকটি জায়গায় উইপোকার বাসা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বিষয়টি জানার পর তাঁর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আরিফুর রহমান সার্কিট হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে বলেন। একই সঙ্গে একটি কম্বলেরও ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা না হওয়ায় পরে বিষয়টি কুমিল্লার এনডিসিকে (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়।
এরপরও দ্রুত বিকল্প কক্ষ বা আবাসনের ব্যবস্থা না হওয়ায় রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যান বিরোধীদলীয় উপনেতা।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা সার্কিট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় এমন অব্যবস্থাপনা দুঃখজনক। একজন গুরুত্বপূর্ণ অতিথির কক্ষে সমস্যা দেখা দেওয়ার পরও দ্রুত বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিরোধীদলীয় উপনেতা সার্কিট হাউস ছেড়ে যাওয়ার পর তারা বিষয়টি জানতে পারে। পরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রাতে সার্কিট হাউস থেকে এনডিসিকে ফোন করে বরাদ্দ করা কক্ষে সমস্যার কথা জানানো হয়। পরে এনডিসি সার্কিট হাউসে কর্মরতদের কক্ষ পরিবর্তনের পাশাপাশি সমস্যাযুক্ত কক্ষটি পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন।
তবে এর মধ্যেই সার্কিট হাউস থেকে আবার ফোন করে জানানো হয়, বিরোধীদলীয় উপনেতা সেখান থেকে চলে গেছেন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টি দ্রুত জানতে পারলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে মন্তব্য করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর সার্কিট হাউসের আবাসন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে। তাঁদের জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
