চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেয়র।
শনিবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করেন বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি জামায়াতের লং মার্চকে ‘লং ড্রাইভ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি, তারা চাইলে তা করতে পারেন। তবে তাকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলা নিয়ে আপত্তি জানান তিনি।
শাহাদাত হোসেন বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি বৈধ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। তার দাবি, শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার মেয়র হিসেবে রেজাউল করিমের দায়িত্বকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার লালদিঘি ময়দানে জামায়াতের লং মার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামের মেয়রকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মেয়র নাকি যতদিন ইচ্ছা ততদিন ক্ষমতায় থাকতে চান। এটিকে প্রশাসন নয়, স্বৈরশাসনের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
জামায়াত আমিরের ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এর পর রাত ১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে প্রতিক্রিয়া জানান চসিক মেয়র।
শাহাদাত হোসেন বলেন, গত ১৬ বছরে তিনি ১১০টি মামলার আসামি হয়েছেন। তাকে নির্বাচনে পরাজিত করা হয়েছিল বলেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। তার করা মামলার রায়ে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মেয়র বলেন, আদালতের রায়ে তার মেয়াদ শপথ গ্রহণের পর থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বৃহত্তর জনস্বার্থ ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার স্বার্থে তিনিও নির্বাচন চান।
তিনি বলেন, ‘সবারই নির্বাচন করার অধিকার রয়েছে। আমিও নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই। এ অবস্থায় জামায়াত আমিরের বক্তব্যে আমি বিস্মিত হয়েছি।’
শাহাদাতের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একতরফাভাবে রেজাউল করিমকে চট্টগ্রামের মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। জামায়াত আমিরের বক্তব্যের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত আমির বর্তমান সরকারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েমের অভিযোগ করলেও তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সময়কার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রকে বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
