আঞ্চলিক নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী (BAF)। তুরস্কের তৈরি অত্যন্ত আধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ALP-300G’ দূরপাল্লার আর্লি ওয়ার্নিং রাডার মোতায়েন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তুর্কি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আসেলসান’ (ASELSAN)-এর তৈরি এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হলে বাংলাদেশের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন এক মাত্রায় পৌঁছাবে।
তুরস্কের ‘Uzun Menzilli Erken İhbar Radar Sistemi (EİRS)’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই রাডারটি এস-ব্যান্ডের একটি AESA (অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে) রাডার। এর কার্যকর পাল্লা ৪৫০ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ শনাক্তকরণ পাল্লা ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ফলে বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী আরও ছয়টি দেশ—ভারত, মিয়ানমার, ভুটান, নেপাল, চীনের তিব্বত অঞ্চল এবং থাইল্যান্ডের কিছু অংশের আকাশসীমার সামগ্রিক সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ করার অভূতপূর্ব সক্ষমতা লাভ করবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই রাডারটি আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এমনকি এক তুর্কি প্রকৌশলীর দাবি অনুযায়ী, রাশিয়ার বহুল আলোচিত S-400 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সার্চ রাডারের চেয়েও প্রযুক্তিগত দিক থেকে ALP-300G অধিক সক্ষম। ডিজিটাল বিমফর্মিং, ইসিসিএম (ECCM) এবং আইএফএফ মোড ৫/এস (IFF Mode 5/S) সুবিধার কারণে এটি দূরপাল্লার যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল থেকে শুরু করে কম রাডার-সিগনেচারের যেকোনো স্টিলথ লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে ট্র্যাকিং করতে পারে। শতভাগ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই রাডার ইতোমধ্যে তুরস্কের সামরিক বাহিনীতেও যুক্ত রয়েছে।
২০২৪ সালের মে থেকে সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এই দূরপাল্লার আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সংযোজনের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং পরিস্থিতিগত সচেতনতা (Situational Awareness) বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা সুরক্ষায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
