আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখার পরও গ্রেপ্তার না দেখালে এবং তাকে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ না দিলে, অতিরিক্ত সময়টুকু ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের কোনো অসংগতি হবে না। দেশে গুমের যেসব অভিযোগ বা রিপোর্ট রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করেননি। ফলে আইন অনুযায়ী এখন তার আর আপিল করার সুযোগ নেই।
গুম প্রতিরোধে নতুন আইন
এর আগে রোববার রাতে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার, জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আজীবন ভোগদখলের অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দিতে জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়।
পাস হওয়া বিলগুলো হলো—
- ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’
- ‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
মানবাধিকার কমিশনে নতুন আইনি কাঠামো
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য নতুন আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গুমের অপরাধে কঠোর শাস্তি
‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ জোরপূর্বক গুমের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া গুমের শিকার কোনো ব্যক্তি মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।
নতুন আইনের ফলে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্পত্তি হস্তান্তরে আজীবন ভোগদখলের অধিকার
‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তরের পরও দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কেউ তার সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনগত অধিকার নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে পারবেন।
তিনটি বিল পাসের ফলে একদিকে মানবাধিকার সুরক্ষা ও জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার হবে, অন্যদিকে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকারও আইনি ভিত্তি পাবে।
