সরকারি চাকরিতে নিজস্ব দলীয় জনবল নিয়োগ ও পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের আলোচনার মাঝেই ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিতের নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর এই নতুন বিধিমালা অনুমোদিত হওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে ‘পরীক্ষার মানবণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কারিগরি পদ ছাড়া ১১-১২তম গ্রেডে ১৫০ নম্বরের মধ্যে ৫০, ১৩-১৬তম গ্রেডে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪০ এবং ১৭-২০তম গ্রেডে ৫০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে ভাইভাতেই রাখা হয়েছে ২৫ নম্বর। অর্থাৎ ভাইভাতেই ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দাবি—প্রক্সি পরীক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতি ঠেকাতেই ভাইভার নম্বর বাড়ানো হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি বন্ধের দোহাই দিয়ে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি করার আসল উদ্দেশ্য হলো দলীয় বা পছন্দের লোকদের সরকারি প্রশাসনে ঢোকানো। এর আগে বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগে ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার নজির দেখা গিয়েছিল।
প্রশাসন বিশেষজ্ঞ মো. ফিরোজ মিয়ার মতে, “পছন্দের লোক নিয়োগ দিতেই সাধারণত মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হয়। এতে দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং প্রশাসনে অদক্ষ ও অযোগ্যদের প্রাধান্য বাড়বে।” অন্যদিকে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে মেধাও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত ‘মেরিটোক্রেসি’ বা মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ার অঙ্গীকারের সঙ্গেও বড় ধরনের বৈপরীত্য তৈরি করছে।
