সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আটক শিক্ষার্থী সিফাত আবদুল্লাহর (২০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর বিচারক রাকিবুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে সিফাতকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে পুরোনো একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সিফাত আবদুল্লাহ রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী এবং গাজীপুর মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সিকান্দার আলীর ছেলে।
মামলার শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, সিফাত যে গালিগালাজ বা বিদ্যুৎসংক্রান্ত বক্তব্যের কারণে আলোচনায় এসেছে, এজাহারে সেটির উল্লেখই নেই। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ২০২৬ সালের জুনের একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি সিদ্দিকুর রহমান জামিনের বিরোধিতা করে দাবি করেন, সিফাত ফ্যাসিস্ট শক্তির দোসর এবং গত ৫ আগস্টের আন্দোলনের আগে থেকেই সে সরকারবিরোধী অপতৎপরতায় যুক্ত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় আদালত জামিন নাকচ করেছেন।
তবে সিফাত আবদুল্লাহকে তাদের দলের সক্রিয় কর্মী দাবি করেছে নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক আলীর নাছের খান জানান, সিফাত বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তাকে নানা ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে, যা নতুন করে একধরনের ফ্যাসিজমেরই বহিঃপ্রকাশ।
