গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের চেতনা ধারণ এবং তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট নিরসনসহ ৬ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচিতে জনগণের অভূতপূর্ব সাড়াজাগানো সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন পথসভা পেরিয়ে রাত ৯টায় চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে পৌঁছানোর মাধ্যমে নজিরবিহীন শৃঙ্খলার এই দীর্ঘ লংমার্চ শেষ হয়।
লংমার্চের সূচনা ও সমাপনীসহ পথসভাগুলোতে রাজপথে নেমে আসা লাখো মানুষের উদ্দেশ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সরকারকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। নেতারা অবিলম্বে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, এসব দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এই ৬ দফা সরকারের পতন ঘটানোর এক দফা দাবিতে পরিণত হতে সময় লাগবে না বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।
আয়োজকরা নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চালক ও যাত্রীদের গাড়ি বহর কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ পথজুড়ে হাজার হাজার মানুষ লাল-সবুজ ও দলীয় পতাকা এবং বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে লংমার্চের বহরকে অভ্যর্থনা জানান। খাদ্য বিতরণ ও যাতায়াতে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পুরো লংমার্চটি শেষ হয়।
চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে ওয়াদা খেলাফ ও প্রতারণা করছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং গণভোটের রায় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে এবং গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন না করা হলে সরকারকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।







